Pages

Thursday, November 11, 2010

মূলনীতি

বিএনপির লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রায়ন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্ব-নির্ভরতার উত্থান ঘটানো। এগুলোর ভিত্তিতে জিয়াউর রহমান তার ১৯-দফা ঘোষণা করেন। বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল-
১. সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস,
২. জাতীয়তাবাদ,
৩. গণতন্ত্র,
৪. সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সমাজিক ন্যায়বিচারের অর্থে)।

Wednesday, November 10, 2010

সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিস্থাপনসিপাহী-জনতার বিপ্লব ও আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিস্থাপন

তথ্যের আধিক্য-অনাধিক্য এবং দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে যে কোনো ঘটনা নিয়ে বিতর্ক হয়ে থাকে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যা ঘটেছিল, সে ঘটনার আলোচনা করতে গেলে প্রায় সবাই একই তথ্য উপস্থাপন করবেন। তবে ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তত্পরবর্তী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমার মনে হয়, আর যা-ই হোক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছে। আর এজন্যই ইতিহাস পরম্পরায় এটি তাত্পর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে আলোচিত হবে।
শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় শাসন বা বাকশাল, তার হত্যাকা এবং তত্পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে সর্বত্র যে একটি অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তার গতি পরিবর্তন হয়। রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ইতিবাচক পথে হাঁটার সুযোগ খুঁজে পায়। এই প্রেক্ষাপটেই জিয়াউর রহমানের মতো একজন ইতিবাচক ও সৃজনশীল রাষ্ট্রনায়ক খুঁজে পায় বাংলাদেশ, যার ফল হিসেবে সমন্বিত রাজনৈতিক চর্চা ও সুষ্ঠু সমাজ-ব্যবস্থা গঠনের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
আধিপত্যবাদীদের ষড়যন্ত্র ও সেনাবাহিনীর একটি অংশের বিদ্রোহে দেশ যখন চরম সঙ্কটের মুখোমুখি, তখন সিপাহী-জনতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে যে ব্যক্তিকে বের করে এনেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তিনিই আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করেছেন। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কেউ কেউ নেতিবাচক আলোচনা উপস্থাপন করলেও ঐতিহাসিকভাবে তিনি একজন সফল সেনা সদস্য, আবার রাষ্ট্রনায়ক।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেও তিনি ক্যান্টনমেন্টে ফিরে গিয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর মধ্যে নানা সঙ্কটে তিনি বিচক্ষণতার উদাহরণ রেখেছেন। ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঘটনাসহ বাংলাদেশের রাজনীতি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন যে, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে একটি শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ আর্মি প্রয়োজন। তাই আমাদের দেশে এমন আর্মি গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আর্মির সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আধুনিকায়নের কৃতিত্ব মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানেরই।
এক্ষেত্রে একটি কথা মনে রাখা দরকার, যদিও তিনি সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন, তবু তিনি সব সময় মনে করতেন সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও রাজনীতিবিদদের ভূমিকা পৃথক। তার মতে, রাষ্ট্রের স্বার্থেই ‘Armed forces should be under the control of the politicians.’ এ জন্য তিনি political process ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি এই কথা বলতে বেশি পছন্দ করতেন যে, Politics should be made by politicians and armed forces should be made by army.
সিপাহী-জনতার যৌথ প্রচেষ্টায় যিনি রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন, তিনি সাধারণ মানুষের চিন্তা ধারণ করতেন। তাদের চাহিদা বুঝতেন। আজকে আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর স্বপ্নের কথা বলছি, মূলত এসব ধারণা খুবই স্বচ্ছভাবে প্রায় ৩০ বছর আগে জিয়াউর রহমান বলে গেছেন। জিয়াউর রহমানের তত্কালীন ভাষণগুলো পড়লে বোঝা যাবে, একজন রাষ্ট্রনায়ক কীভাবে ৫০ বছর পরের বাংলাদেশকে নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি যে কাজ শুরু করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা কেউ রক্ষা করেননি। ‘গণতন্ত্র’ ধারণাটাই পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে।
শেখ মুজিব যে একদলীয় শাসন বা বাকশাল করেছিলেন, জিয়াউর রহমান সেটিকে সঠিক মনে করতেন না। এজন্য তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পদ্ধতিও পুনরুদ্ধার করেন। এ থেকে স্পষ্ট হয়, ৭ নভেম্বরের ঘটনা না ঘটলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারণা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা পেত না। তিনি জানতেন, রাজনীতিকে ঠিকমত চালাতে হলে, সুন্দর করে রাজনীতি করতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের দরকার। সেজন্য তিনি নিজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যান্য দলকেও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তার একটি বিরাট অবদান। জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীর সদস্য হয়েও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস করেছিলেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম ফ্রি ইলেকশন করেন। তার সময়ে বিভিন্ন দল সংসদে আসন লাভ করে। শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার ও বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বিভিন্ন আলোচনায় বলতেন।
আমার চিন্তা ছিল, কনভেনশনাল আর্মির পাশাপাশি গোটা জাতিকে সামরিক শিক্ষায় প্রশিক্ষিত করতে না পারলে দেশের প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় হবে না। এজন্য আর্মিকে দেশের জনগণকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজে লাগাতে হবে। এই চিন্তাটি আমি আমার এক বইয়ে লিখেছি। জিয়াউর রহমান আমার এই চিন্তা সমর্থন করেছিলেন। তবে তিনি প্রথমে ছাত্রদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা চিন্তা করেন। এজন্য তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) গঠন করেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে ধারাবাহিকভাবে জনগণকে প্রশিক্ষিত করার কথাও তিনি বলেছিলেন।
একজন শাসক তখনই রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন, যখন তিনি দেশের বর্তমানের চেয়েও ভবিষ্যতের চিন্তা করেন বেশি। জিয়াউর রহমান ছিলেন তেমনিই একজন শাসক। দূরদর্শী এই নেতা শুধু বাংলাদেশের বর্তমান নিয়েই চিন্তা করতেন না, ভবিষ্যত্ নিয়েও ভাবতেন। তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে তার শাসনামলের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত ছিলেন। শক্তিশালী ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠন, আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ এবং মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অটুট রেখে, রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিয়ে তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন।
জিয়াউর রহমানের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তনে। তিনি বুঝেছিলেন, বাংলাদেশ শুধু জাতিগত ‘বাঙালি’ পরিচয়ে পরিচিত হবে না, একই সঙ্গে মুসলমানসহ অন্য ধর্মের পরিচয়ও রয়েছে। এসব পরিচয়কে একত্রিত করতে হবে। তিনি যে রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন, তার মূলে ছিল এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এগুলোই ছিল তার মূল অবদান।
একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান সব সময় অন্যের Point of view বোঝার চেষ্টা করতেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন দলের লোকের সঙ্গে আলোচনা করতেন। তিনি যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন, তার যৌক্তিকতা আজও সমানভাবে রয়ে গেছে। এই ১৯ দফার মধ্য দিয়ে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সেনাবাহিনীকে যেমন জিয়াউর রহমান আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছেন, তেমনি জনগণের প্রতিও তার কমিটমেন্ট ছিল। এই কমিটমেন্ট থেকেই তিনি মাইলের পর মাইল হাঁটতে পারতেন। সে সময় অনেক সিভিল সার্ভেন্টের সঙ্গে আমার আলাপ হতো। তারা বলতেন, ‘লোকটি পাগল নাকি, মাইলের পর মাইল হাঁটেন কীভাবে?’ অবশ্য পরে তারা তার আন্তরিকতা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামল ছিল মাত্র সাড়ে ৩ বছরের। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশকে একটি ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তার শাসনামল ছিল সবদিক দিয়েই উল্লেখযোগ্য। এ সময়ের মধ্যে তিনি রাজনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেন। তার অব্যবহিত আগে রাজনীতির যে বন্ধ্যাত্ব ছিল তা কাটিয়ে ওঠার জন্য বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। গণতন্ত্রের প্রাণ রাজনৈতিক দলগুলো তার আমলেই জীবন লাভ করে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নম্নতিও ঘটে। এ সময়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে।
মুখে মুখে নয়, তিনি আসলেই বিশ্বাস করতেন জনগণই ক্ষমতার উত্স। তিনি মনে করতেন, গ্রামের উন্নতির অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নতি হওয়া। এজন্য তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কৃষি উন্নয়নে তিনি খাল কাটা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। এই কর্মসূচির পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সঙ্কট দেখা দিত না। বর্ষা মৌসুমে পানি ধরে রাখা যেত।
আমার সঙ্গে তার মাঝে মাঝে আলাপ হতো। কথাবার্তায় তিনি ছিলেন ইন্টেলিজেন্ট। পোশাকে-আশাকে ছিলেন কেতাদুরস্ত। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সবকিছু নিয়ে ছিল তার সমান আগ্রহ।
সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে এলেও জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। রাজনীতি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা এবং এমনকি সঙ্গীত জগতের খোঁজখবরও তিনি রাখতেন। একদিন তার অফিসে বসে আছি। তিনি তার একজন স্টাফকে বললেন, ফুটবলার সালাহউদ্দিনকে ডেকে দিতে। সালাহউদ্দিন তখনকার ফুটবলের একজন জনপ্রিয় খেলোয়াড়। কিন্তু আমি চিনতাম না, এমনকি তার সম্পর্কে জানতামও না। তিনি কে? জিজ্ঞেস করতেই জিয়াউর রহমান বললেন, ‘জানেন না, তিনি তো আমাদের দেশের একজন জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়।’ সালাহউদ্দিনের নাম তখন তার কাছ থেকেই প্রথম শুনি। এই সালাহউদ্দিন আজ বাংলাদেশ ফুটবলে অন্যতম খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
শুধু তাই নয়, ভালো, মেধাবী এবং উদ্যমী লোকদের তার পার্টিতে জড়ো করতে পেরেছিলেন। মফস্বলের একজন উকিলের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তিনি ভালো মানুষ, পাশাপাশি ভালো সংগঠকও। তিনি বিএনপির একজন নেতা। তাকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম, রাজনীতিতে তিনি কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন? তিনি বললেন, ‘আমাদের মহকুমার এসডিও সাহেব একদিন ডেকে বললেন, রাষ্ট্রপতি সাহেব আপনাদের মতো লোকদের খুঁজছেন। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আলাপ হলো। ভালো লাগল। তারপর দলে যোগ দিলাম।’
তখনকার পিজি হাসপাতালের (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) এক চিকিত্সকের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। এখন তিনি আর দেশে নেই। অনেকদিন আগে বিদেশ চলে গেছেন। তিনি প্রসঙ্গক্রমে একদিন বললেন, ‘‘হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। আমার সামনে দিয়ে রাষ্ট্রপতির গাড়ির বহর যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাত্ আমার সামনে এসে গাড়ির বহর থেমে যায়। গাড়ি থেকে নামলেন যিনি, দেখলাম তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বললেন, ‘গাড়িতে উঠুন।’ আমি দ্বিরুক্তি করিনি। একেবারে সোজা বঙ্গভবনে। নেমে জিজ্ঞেস করলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের চিকিত্সার বিষয়ে।”
অনুলিখন : মাহাবুবুর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

LeaderBegum Khaleda Zia
Founded1978 (1978)
HeadquartersNaya Paltan, Dhaka (primary office) and Gulshan 2, Dhaka (secondary office)
IdeologyBangladeshi nationalism,
economic conservatism,
moderate Islamism,
corporatism
International affiliationNone
Official colorsBlue