শহীদ জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী আজ
স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম কমল। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে দলের মহাসচিব বাণী দিয়েছেন।
স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের কাছে প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ’৯১ সালের ৫ম সংসদ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের ৪র্থ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে।
শহীদ জিয়ার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আজ সকালে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের পক্ষ থেকে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও পরে জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
’৭১ সালে তার স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ’৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়—তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দেন।
পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ জিয়াউর রহমানেরই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহত্ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
মহাসচিবের বাণী : বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তার (জিয়া) প্রদর্শিত পথেই জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন যোদ্ধা। তাই আধিপত্যবাদের এদেশীয় এজেন্টরা নিজেদের নীল নকশা বাস্তবায়নের পথে কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। তিনি শহীদ জিয়ার জন্মদিনে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাতে দেশবাসীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এদেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দুঃসময়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। স্বাধীনতা-উত্তর দুঃসহ স্বৈরাচারী দুঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে—জাতির এমনি এক সঙ্কটময় মুহূর্তে সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। উত্পাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার গভীর গণতান্ত্রিক চেতনা এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
খোন্দকার দেলোয়ার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের কাছে প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ’৯১ সালের ৫ম সংসদ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের ৪র্থ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে।
শহীদ জিয়ার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আজ সকালে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ১০টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দলের পক্ষ থেকে শহীদ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। বেলা ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও পরে জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
’৭১ সালে তার স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এদেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ’৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়—তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দেন।
পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ জিয়াউর রহমানেরই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহত্ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
মহাসচিবের বাণী : বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তার (জিয়া) প্রদর্শিত পথেই জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন যোদ্ধা। তাই আধিপত্যবাদের এদেশীয় এজেন্টরা নিজেদের নীল নকশা বাস্তবায়নের পথে কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগে জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। তিনি শহীদ জিয়ার জন্মদিনে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাতে দেশবাসীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এদেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দুঃসময়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। স্বাধীনতা-উত্তর দুঃসহ স্বৈরাচারী দুঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্ত, ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দিয়ে জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতা-উত্তর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে—জাতির এমনি এক সঙ্কটময় মুহূর্তে সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। উত্পাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার গভীর গণতান্ত্রিক চেতনা এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
খোন্দকার দেলোয়ার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তথ্যের আধিক্য-অনাধিক্য এবং দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে যে কোনো ঘটনা নিয়ে বিতর্ক হয়ে থাকে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যা ঘটেছিল, সে ঘটনার আলোচনা করতে গেলে প্রায় সবাই একই তথ্য উপস্থাপন করবেন। তবে ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তত্পরবর্তী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আমার মনে হয়, আর যা-ই হোক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছে। আর এজন্যই ইতিহাস পরম্পরায় এটি তাত্পর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে আলোচিত হবে।